জন্ম নিবন্ধন কখন করতে হয়

প্রকৃতপক্ষে জন্ম নিবন্ধন শিশুর জন্ম গ্রহণ করার অল্প কিছু দিনের ভেতরেই তৈরি করা উচিত। কিন্তু আমরা অনেকেই আছে যারা এই জন্ম নিবন্ধন সনদ সম্পর্কে গুরুত্ব প্রদান করে না এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার জন্য নিবন্ধকের কার্যালয় অথবা স্থানীয় সরকার বিভাগের দৌড়াদৌড়ি করি। তবে আপনারা যদি জন্ম নিবন্ধন সনদের গুরুত্ব বুঝতে পারেন এবং জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হলে কি কি ধাপ অনুসরণ করতে হয় তা বুঝতে পারেন তাহলে একজন শিশু জন্মগ্রহণ করার অল্প কিছু দিনের ভেতরেই আপনারা এটি তৈরি করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন।

জন্ম নিবন্ধন প্রত্যেকটি ব্যক্তির একটি স্বতন্ত্র ডকুমেন্টস এবং এই ডকুমেন্টসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাজকর্ম করা যায়। একজন শিশু যখন জাতীয় পরিচয় পত্র হাতে পায় না ততদিন সে তার অন্যান্য কার্যক্রম জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে প্রদান করে। বিভিন্ন ধরনের অনলাইন আবেদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় জন্মনিবন্ধনের সনদ এর নাম্বার আমাদেরকে প্রদান করতে হয়। কিন্তু অনেকেই এ জন্ম নিবন্ধন সনদের গুরুত্ব প্রদান করেন না।

তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হলে বর্তমান সময়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ অবশ্যই প্রদান করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার জন্য একই সময়ে অনেক মানুষ স্থানীয় সরকার বিভাগের যায় বলে এসময় ভিড় হয়। তাছাড়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার ক্ষেত্রে যে কাগজটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র অথবা টিকা কার্ড। আপনার সন্তান যখন জন্মগ্রহণ করবে তখন সেই টিকা কার্ড আপনারা খুব সহজেই পেয়ে যাবেন এবং এ ক্ষেত্রে কোন ধরনের ঝামেলা হবে না।

আর আপনার যদি জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা না থাকে তাহলে খুব সহজেই ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে আপনি এবং অন্যান্য অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে নিয়ে তারপরে সেই নাম্বার অনুযায়ী সন্তানের জন্য জন্ম নিবন্ধন এর যাবতীয় কার্যক্রম করতে হবে। তাছাড়া আপনার বর্তমান স্থায়ী ঠিকানার জমির কর পরিশোধ করতে হবে এবং এই কর পরিশোধ করে আপনাদেরকে শিশু জন্ম গ্রহণের অল্প কিছু দিনের ভেতরেই জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হবে।

এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে কোন ধরনের খরচ হবে না এবং আপনি নিশ্চিন্ত ভাবে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে থাকতে পারবেন। কারণ যেকোন প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধন সনদ কাজে লাগবে। তাছাড়া ভর্তির সময় আপনাদের কোন ধরনের ঝামেলা হবে না এবং ভর্তির তথ্য সেই সন্তানের নাম এবং জন্মতারিখ সঠিকভাবে প্রদান করা হবে এবং অভিভাবকের তথ্য জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী প্রদান করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোন ধরনের ভুল করবেন এবং পরবর্তীতে সার্টিফিকেট নির্ভুলভাবে তৈরি করা হবে।

তাছাড়া জন্ম নিবন্ধন সনদের কোনো তথ্য যদি ভুল থাকে তাহলে অল্পতেই আপনার তো সমাধান করতে পারবেন এবং সমাধান করে সেই জন্ম নিবন্ধন সনদ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করতে পারবেন। তাই আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার জন্য শিশু জন্ম গ্রহণের 45 দিনের পরেই তা করে ফেলুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করলে পরবর্তীতে এই ঝামেলা আপনারা এড়িয়ে চলতে পারবেন।যেহেতু জন্ম নিবন্ধন একদিন না একদিন আপনাদের ঠিক‌ই করতে হবে সেহেতু এই কাজ আগে করলে সব চাইতে ভাল হয়।

তাছাড়া আমি যখন জন্ম নিবন্ধন সনদ পরবর্তীতে তৈরি করবেন তখন অতিরিক্ত পরিমাণ চার্জ প্রদান করতে হবে। তাই জন্ম নিবন্ধন সনদ এর প্রতি হেলাফেলার না করে একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন সনদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করে ফেলুন। তাছাড়া এই জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার ক্ষেত্রে কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে কিভাবে কোন তথ্য প্রদান করে আবেদন করতে হবে তার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার জন্য একটি বিস্তারিত পোস্ট দিয়ে দেওয়া আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button