জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম

আপনি যদি আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে এই সনদ তৈরি করার জন্য যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে করতে হবে। বর্তমান সময়ে যে সকল জন্ম নিবন্ধন সনদ নতুনভাবে তৈরি করা হচ্ছে সে সকল জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়ার জন্য অনলাইনে প্রথমে আবেদন করতে হচ্ছে। আবেদনপত্র প্রিন্ট দেওয়ার পরে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে কিছু ডকুমেন্টস প্রদান করে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে অথবা নিবন্ধকের কার্যালয় এর কাছে এই কাগজপত্র জমা দিলেই তারা কিছুদিন এর ভিতর জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করছে।

তাই আপনার পরিবারে যদি কোন নতুন সদস্য আসে অথবা নতুন শিশুর জন্ম হয় তাহলে তার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে নিন। তবে বর্তমান সময়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হলে তার অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন সনদ আগে তৈরি করতে হবে। যদি অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা না থাকে তাহলে আপনারা স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে নিবেন।

তবে জন্ম নিবন্ধন সনদ যে ওয়েবসাইটে তৈরি করার জন্য আবেদন করা হয় সেই ওয়েবসাইট এর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, যার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়নি এবং সেই ব্যক্তির জন্ম যদি 2000 সালের আগে হয়ে থাকে তাহলে তার পিতামাতার জন্মনিবন্ধনের সনদ এর প্রয়োজন নেই। এই ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে আগে জন্ম গ্রহণ করার ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হলে তার অভিভাবকের অথবা পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র থাকলেই হবে।

তাহলে আমরা নিচে গিয়ে জেনে নিজে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার জন্য কোন ধাপ অনুসরণ করতে হবে এবং কিভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। তাছাড়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার অন্যান্য যেসকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে সেই সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত ধারণা এই পোষ্টের মাধ্যমে প্রদান করতে চলেছি। বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হলে আপনাকে https://bdris.gov.bd/br/application ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

তবে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হলে একজন ব্যক্তির কি কি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে সে সম্পর্কে আগে তথ্য জেনে নিন। কারণ অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপনি যদি ছবি তুলে আপলোড করতে না পারেন তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই 2000 সালের পরে জন্মগ্রহণকারী কোন শিশুর যদি জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে চান তাহলে তার অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে নিবেন।

তাছাড়া সেই শিশুর জন্ম গ্রহণের সময় স্বাস্থ্যকর্মী কর্তিক যে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করা হয়েছিল সেই প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। এছাড়াও যে শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে যাচ্ছেন তার অভিভাবকের অথবা অভিভাবকের পিতার বর্তমানে স্থায়ী ঠিকানায় যেখানে বসবাস করছে সেই ঠিকানার কর পরিশোধের রশিদ লাগবে। তাছাড়া বর্তমানে যে স্থানে বসবাস করছে সেই স্থানের স্বনামে যে জমি রয়েছে সেই জমির খাজনা পরিশোধের রশিদ লাগবে।

তাই উপরে উল্লেখিত কাগজপত্র যদি আপনার সংগ্রহে থাকে অথবা আপনি যদি সংগ্রহ করেন তাহলে জন্ম নিবন্ধন কিভাবে অনলাইন করবেন তা এখন এখান থেকে জানতে শুরু করুন। উপরে উল্লেখিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে আপনাদের সামনে যে নতুন পেজ আসবে সেখান থেকে আপনারা নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার আবেদন শুরু করতে পারবেন। প্রথমেই আপনাদের স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা এবং জন্মস্থানের ঠিকানার ভেতর থেকে সঠিক অপশন নির্বাচন করুন।

অর্থাৎ যার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করবেন তার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার ক্ষেত্রে কোন ঠিকানা প্রদান করবেন তার নির্বাচন করলেই হবে। এখন আপনাদের পরবর্তী পেজে যেতে হবে এবং সেখানে যার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করবেন তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রদান করতে হবে। প্রথমেই বাংলা ইউনিকোড কিবোর্ড এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির নামের প্রথম অংশ এবং নামের শেষ অংশ লিখতে হবে। একই নিয়ম অনুসরণ করে ইংরেজিতে নামের প্রথম অংশ এবং নামের শেষের অংশ উল্লেখ করতে হবে।

যদি কোন ব্যক্তির নাম দুই শব্দের হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনারা নামের শেষের অংশ সেই তথ্য প্রদান করবেন। তাছাড়া এখানে আরো একটি বিষয় আপনাদের জানাতে চাই যে, নাম প্রদান করার সময় আপনাদেরকে অবশ্যই সঠিক নাম প্রদান করতে হবে। কারণ আপনারা যখন ফাঁকা ঘরে নাম প্রদান করছেন তখন সেই তথ্য সরাসরি ওয়েবসাইটের সার্ভারে জমা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে এই তথ্য সংশোধন করার কোন সুযোগ পাবেন না।

এভাবে নাম দিয়ে দেওয়ার পরে লিঙ্গ এবং পিতামাতার কততম সন্তান তা উল্লেখ করুন। এখন যার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করছেন তার জন্ম নিবন্ধন সনদের সঠিক সাল প্রদান করুন। আপনারা যখন জন্ম তারিখ প্রদান করবেন তখন আপনাদের সামনে একটি তথ্যসমৃদ্ধ পেজ খুলে যাবে। সেই পেজে এমন কিছু তথ্য সম্পর্কে আপনাদের জানানো হবে যা ইতিমধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটের উপরের দিক আলোচনা করা হয়েছে। এই পেজের তথ্য যদি সঠিকভাবে প্রদান করা হয়ে থাকে তাহলে এখন পরবর্তী পেজে যান এবং সেখানে গিয়ে অভিভাবকের সঠিক তথ্য প্রদান করুন।

যদি জন্ম নিবন্ধনকারী ব্যাক্তির জন্ম 2000 সালের পরে হয়ে থাকে তাহলে অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন সনদের নাম্বার প্রথমে ব্যবহার করুন। আর যদি সেই ব্যক্তির জন্ম 2000 সালের আগে হয়ে থাকে তাহলে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ব্যবহার করুন। আপনি জন্ম নিবন্ধন নাম্বার অথবা জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ব্যবহার করলে সেখানে অটোমেটিক পিতার নাম এবং মাতার নাম চলে আসবে। এভাবে আলাদা আলাদা ঘরে পিতা এবং মাতার তথ্য দিয়ে দেওয়ার পর পরবর্তী পেজে চলে যাবেন।

পরবর্তী পেজে গেলে আপনার থেকে ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হবে এবং এই ক্ষেত্রে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনি বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা একই দিতে চান কিনা। তাছাড়া জন্মস্থান এর ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা যদি এটাই হয়ে থাকে তাহলে আপনারা দুই অপশন এই নীল রংয়ের লেখার উপরে ক্লিক করবেন। তাহলে পরবর্তী পেজে গিয়ে আপনাকে শুধু সকল ঘরে একবার করে তথ্য প্রদান করলেই হবে। এখন আপনাকে এখান থেকে দেশের নাম নির্বাচন করতে হবে এবং তারপরে বিভাগের নাম, জেলার নাম, উপজেলার নাম, পৌরসভার নাম ওয়ার্ডের নাম বা নাম্বার সহ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে।

ঠিকানা সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রদান করা হয়ে গেলে আপনার এখন পরবর্তী পেজে যেতে পারেন। এখানে এখন যে ব্যাক্তি নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরি করার জন্য আবেদন করছে অথবা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার জন্য যে ব্যক্তি কাজ করছে তার সঙ্গে আসলে যা তথ্য প্রদান করা হয়েছে তার সম্পর্ক কি তা উল্লেখ করতে হবে। আপনি যদি নিজের জন্ম নিবন্ধন সনদ নিজে তৈরি করেন তাহলে নিজ অপশন দিয়ে দিবেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষজন জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম অনুসরণ করার ক্ষেত্রে কম্পিউটার অপারেটরের অথবা অনলাইনের দোকানের সহায়তা গ্রহণ করে থাকে। তাই আপনারা আবেদনকারীর তথ্য অপশনে অন্যান্য অপশন দিয়ে দিন।

তারপরে মোবাইল নাম্বার এর ঘরে আপনার নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেসের জায়গাতে আপনার ইমেইল এড্রেস প্রদান করুন। এখন আপনাকে উপরে উল্লেখিত যে সকল কাগজপত্রের কথা বলা হয়েছে সে সকল কাগজপত্রের ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। ছবি তুলে আপলোড করা হয়ে গেলে আপনারা পরবর্তী পেজে যাবেন। এতে পরবর্তী পেজে আপনারা দেখতে পাবেন যে, এতক্ষণ যে সকল তথ্য আপনারা ইনপুট করেছেন সে সকল তথ্য একটি পেজের মধ্যে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

এখান থেকে আপনি কোন তথ্যের ভুল দেখতে পারলে তা সংশোধন করার সুযোগ পাবেন।তাই এই পাতা আপনারা ভালো মত দেখে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন এবং আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন অথবা নতুন জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম ইতোমধ্যে হয়ে গিয়েছে। এতে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ যেমন অনলাইনে লিপিবদ্ধ হলো তেমনি ভাবে এই পেজকে আপনাদের প্রিন্ট অপশনে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে হবে। অবশ্য সেখানকার যে অ্যাপ্লিকেশন আইডি প্রদান করা হয়েছে সেটি আপনারা খুব যত্নসহকারে সংগ্রহ করুন।

এভাবে আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম জানতে পারলেন এবং এই জন্ম নিবন্ধন এর হার্ডকপি পেতে আপনাকে অবশ্যই স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণস্বরূপ কাগজ পত্র প্রদান করে কিছুদিনের মধ্যেই হার্ড কপি সংগ্রহ করতে হবে। ধৈর্য সহকারে আমাদের ওয়েবসাইটের এই পোস্ট শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

Related Articles

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button