পিতা-মাতা না থাকলে অথবা পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে কিভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করবেন

বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটি ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে এবং এই জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে আপনি বিভিন্ন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করতে পারবেন না অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। আবার আপনি যদি লেখাপড়া না করেন এবং যেকোনো একটি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তখন আপনার কোন ধরনের এনজিও থেকে লোন নেওয়ার প্রয়োজন হল, তখন আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় হিসেবে জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ পত্রের কপি দিতে হবে।

কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদ না তৈরি হলে আপনাকে জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে দিবে না। তাই জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হবে সর্বপ্রথমে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে নিতে হবে।

কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হলে বর্তমান সময়ের নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে যাবতীয় কাজ শেষ করতে হবে এবং অনলাইনে সকল কাজ করতে হলে আপনাকে বেশ কিছু কাগজপত্র এবং তথ্য নিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে বসতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার সময় দেখা যায় যে একজন ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য প্রদান করা হয়ে গেল কিছু সমস্যার কারনে বেশ ঝামেলা হয়েছে এবং অনলাইনে আবেদন করার পরেও জন্ম নিবন্ধন সনদ হাতে পাওয়া যায় না।

অনলাইনে যে সকল ফাঁকা ঘরে তথ্য চাওয়া হয় সেগুলো যদি আপনারা যথাযথ ভাবে প্রদান করতে পারেন তাহলে দেখা যাবে যে প্রত্যেকটি তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করার ফলে আপনি আবেদন পত্র সহ অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আপনাকে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করছে।

আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য পোস্টে জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য কিভাবে আবেদন করতে হবে এবং কিভাবে পরবর্তী ধাপ অনুসরণ করতে হবে এবং কিভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন করার ক্ষেত্রে কোন কোন কাগজপত্র লাগবে তা সহ বিস্তারিত পোস্ট করা হয়েছে। তবে আজকের এই পোস্টের বিষয়বস্তু হলো ভিন্ন রকম।

আপনারা যখন জন্ম নিবন্ধন সনদের আবেদন করতে যাবেন তখন আবেদন করার ক্ষেত্রে https://bdris.gov.bd/br/application লিংক ব্যবহার করতে হবে অথবা নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন লিখে সার্চ করে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদের আপনি যখন ধাপে ধাপে সকল তথ্য প্রদান করবেন এবং স্থায়ী ঠিকানা সহ বর্তমান ঠিকানা যখন প্রদান করবেন তখন তৃতীয় ঘরে গিয়ে আপনাদের পিতা-মাতার বা অভিভাবকের তথ্য প্রদান করতে হয়।

অভিভাবকের তথ্য প্রদান করার ক্ষেত্রে অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন সনদ নাম্বার এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু অনেক মানুষ রয়েছে যারা পথশিশু অথবা অনাথ অথবা পিতা-মাতার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে, সেই ক্ষেত্রে আপনারা জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য সেই পিতা-মাতার তথ্য ব্যবহার করবেন কি-না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন না। অথবা যারা পথশিশু রয়েছে অথবা অনাথ রয়েছে তারা জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার তথ্য কি প্রদান করবে তা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারেন না।

আবার অনেকেই আছেন যারা জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার ক্ষেত্রে দেখছেন যে আপনার পিতা মাতা উভয়েই মৃত্যুবরণ করেছে এবং আপনি জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাদের যে তথ্য প্রদান করবেন সেই তথ্য প্রদান করার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ আগে থেকে কোন ভাবে তৈরি করা নেই।এই ক্ষেত্রে সমস্যা গুলো অনেক জটিল হয়ে থাকে এবং আপনাকে অনেকেই বলবে যে অনলাইনে আবেদন করার সময় পিতা-মাতার তথ্য প্রদান করার ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য অথবা নাম্বার প্রদান করার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু এভাবে আপনি জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে গেলে দেখা যাবে যে অরিজিনাল কপি পাচ্ছেন না এবং ঝামেলা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে আপনার জন্য যদি কোনভাবে টিকা কার্ড অথবা পড়ালেখার মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণির সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা সম্ভব হয় তাহলে আপনারা এটি নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

আর যদি কোনোভাবেই কোনো তথ্য ম্যানেজ করতে না পারেন তাহলে আপনারা অবশ্যই নিবন্ধকের কার্যালয় গিয়ে যোগাযোগ করবেন এবং তারা আপনাকে এ বিষয়ে সহায়তা প্রদান করবে। তবে এক্ষেত্রে ভুলভাল তথ্য প্রদান করে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা প্রয়োজন নেই এবং এই ভাবে যদি আপনার আবেদন করেন তাহলে ফলাফল শূন্য হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button