মা বাবার জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ বানানোর উপায়

মা বাবার জন্ম নিবন্ধন সনদ যদি না থাকে তাহলে বর্তমানের নিয়ম অনুসরণ করে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে গেলে অনেক ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে কারো যদি পিতা-মাতা উভয়েই মৃত্যুবরণ করে তাহলে কিভাবে আপনারা এই জন্ম নিবন্ধন তৈরি করবেন তা আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন। জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রত্যেকটি শিশু জন্ম গ্রহণের পরেই তৈরি করে নেওয়া উচিত। কিন্তু অনেকে আছেন যারা এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রদান করেন না এবং সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদ যেমন তৈরি করেন না তেমনি ভাবে নিজেদের জন্ম নিবন্ধন তৈরি করেননি বলে পরবর্তীতে আর তৈরি করার প্রয়োজন বোধ করেন না।

তাই আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ অবশ্যই তৈরি করতে হবে এবং আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে আপনার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে নিতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সনদ হলো স্থানীয় সরকার পর্যায়ের প্রদান করা একটি প্রাথমিক প্রমাণপত্র এবং এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যক্তিগত পরিচিতি সারা বাংলাদেশের মধ্যে নির্দিষ্ট জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশনের নাম্বার অনুযায়ী ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

তাই জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নার্সারিতে ভর্তি থেকে শুরু করে যাবতীয় ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদের কার্যকারিতা কত যে গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা যায়। ভাই আপনি যদি জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে চান অথবা এটি যদি আপনারা সংগ্রহ করতে চান তাহলে পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ আগেই তৈরি করে নিবেন। এক্ষেত্রে কোন সন্তান যদি ২০০০ সালের পরে জন্মগ্রহণ করে তাহলে তার পিতামাতার জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই জন্ম নিবন্ধন সনদের নাম্বার ওয়েবসাইটে যখন তার সন্তানের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হবে তখন তাদের সেই তথ্য কাজে লাগবে ‌।

তাই আপনারা যারা 2022 সালে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করবেন এবং আপনাদের পরিচিত কোন ব্যক্তির অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের জন্ম ২০০০ সালের পরে হয়ে থাকে তাহলে তার পিতামাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ আগে তৈরি করিনি এবং এর পরে আপনাকে অনলাইনে প্রবেশ করে তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে। বর্তমান সময়ে জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রত্যেকটি কাজ অনলাইনে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে এবং এই লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে প্রাথমিক আবেদন সম্পন্ন করে এবং তার সঙ্গে বেশ কিছু কাগজপত্র প্রমাণাদি হিসেবে প্রদান করে জন্ম নিবন্ধন সনদ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

তাই সন্তানের জন্ম নিবন্ধন তৈরি করার জন্য আপনারা চাইলে ঘরে বসে আবেদন করতে পারেন এবং এই আবেদনের জন্য আপনারা https://bdris.gov.bd/br/application এই লিংক ব্যবহার করবেন এবং লিঙ্ক ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রত্যেকটি ঘরে বাংলায় তথ্য প্রদান করতে হবে বলে বোঝা বুঝে বুঝে তথ্য প্রদান করবেন। সাধারণত যে সকল ঘরের পাশে ছোট করে লালস্টার চিহ্ন দেওয়া আছে সে সকল ঘরের তথ্য অবশ্যই প্রদান করতে হবে এবং যেগুলো প্রদান করা নেই সেগুলো অপশনাল বলে ধরা হয়েছে।

তাই আপনার সেই সন্তানের নাম কি রাখবেন এবং তার ব্যক্তিগত তথ্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিল রেখে এবং পিতা মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র অনুসারে তাদের নাম প্রদান করে এটি তৈরি করতে হবে। তাছাড়া প্রমাণিত হিসেবে বেশ কিছু কাগজপত্র তার সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং ওয়েবসাইটে সেই তথ্যগুলো আপলোড করে আপনারা যখন স্থানীয় সরকার বিভাগের হাতে তা জমা দেবেন তখন তারা আপনাকে চেয়ারম্যানের দস্তখতসহ জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করবে। তখন আপনারা সেই জন্ম নিবন্ধন সনদ নেই আপনাদের ব্যক্তিগত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন এবং এভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ পেয়ে যাচ্ছেন।

তবে ২০০০ সালের আগে যারা জন্মগ্রহণ গ্রহণ করেছেন এবং তাদের পিতা-মাতা যদি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাদের যদি জন্ম নিবন্ধন সম্ভব না থাকে তাহলে জন্ম নিবন্ধন সনদের কোন তথ্য প্রয়োজন করার প্রয়োজন নেই। আর ২০০০ সালের পরে জন্মগ্রহণ করার পরে আপনার পিতা-মাতা যদি হঠাৎ করে মৃত্যুবরণ করে এবং তাদের যদি জন্ম নিবন্ধন সনদ খুজে না পান তাহলে আপনারা আপনাদের স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং এ বিষয়ে কি প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী আবেদন করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button